স্বাগতম জানাই

সবাইকে নমস্কার,

এই ব্লগটা শুরু করা আমার অনেক দিনের কল্পনা। এইখানে আমি বাংলাতেই লিখব নানা বিষয় নিয়ে যেগুলোর প্রতি আমার ব্যাক্তিগত প্রভাব আছে, যেমন দুনিয়ার খবরাখবর, নিজের সঙ্গীত চর্চা, ইতিহাস চর্চা, বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি, রান্নাবান্না, ধর্মালোচনা, ইত্যাদি।

প্রথম লেখা, তাই নিজের ব্যাপারে আগে একটু বলি। বাংলা ভাষার সঙ্গে আমার এক অদ্ভুত সম্পর্ক। ছেলেবেলায় ইংলিশ মিডিয়াম কনভেন্ট স্কুলে যেতাম কলকাতায়ে। তখন বাংলার প্রতি অনুভূতি বিরক্তি আর ঘৃণার মধ্যিখানে। ইংলিশটা কি সহজে আসত। বাংলাটাই সাংঘাতিক কঠিন। ক্লাস ৪এ বঙ্কিমচন্দ্র, এমন সব শব্দতালিকা যা জন্মে ব্যাবহার করব না, যেমন “নিশিতফুল্লকুসুমজুগলবত”, এইগুলোতে ধস্তাধস্তি খেতাম। মনে পড়ে আমার যে সমস্ত সাবজেক্টের মধ্যে টপ মার্কস পেতাম অঙ্ক/ফিসিক্স/কম্পুটার গুলতে, তারপর ইংলিশ লিটারেচার আর রাইটিঙে, আর সবচেয়ে নিচে ছিল বাংলা সাহিত্য ও রচনাবলীতে (এটা জেনে বাকি ব্লগ পড়ুন হাহা)। সাধারণত ক্লাসে ফারস্ট/সেকেন্ড আসতাম সব কিছু মিলিয়ে, তবে মাতৃভাষাটাই আমাকে ডোবাত। ক্লাস ৮এর মিডটার্মে বাংলা রচনায়ে ১০০এ ৫১টা আমার এখনও মনে আছে। নিশ্চয়ই এইরকম মার্কস নিয়ে বকুনিও খেয়েছি, আর মনে হয় উল্টে এরকমও কয়েকবার বলেছি “এটার কি দরকার?” “কি লাভ?” দাদু-দিদারা ছোট ছেলের একথায়ে কি কষ্টবোধ করে থাকতে পারে, তা ওরাই জানে।

ক্লাস ৮এর শেসে আমি মায়ের সাথে আমেরিকায়ে চলে আসি। তখন জানতাম না বা বুঝতাম না কেন, তবে হঠাত ডাইরিতে লেখা আরম্ভ করি…বাংলাতে। ওই ৫১/১০০ মার্কস ওয়ালা বাংলায়ে কলম চালাতাম। পাতার পর পাতা, আন্তাবড়ি, যা খুশি। সেই বয়সের ভাবনা চিন্তা, সুতরাং কোন মেয়েকে আমায়ে ভাল লাগছে, কে আমাকে পাত্তা দিচ্ছে না, এই নিয়েই সব লিখতাম। বাংলাটার “দরকার”বোধ এবার এলো। ডাইরিটা অন্যের হাথে পড়লে কারুর কাজে লাগবে না…আগামী ৫০ মাইলের মধ্যে আমিই একমাত্র যে এই একক লিপিটি বোঝে।   যদিও বেশিরভাগ কথাগুলো ইংলিশেরই ছিল, সেগুলোকে জোর করে বাংলালিপিতে লিখে দিতাম। কি অবস্থা। তাও সে যে আঁকড়ে ধরে আছি যা হোক করে সে বয়স থেকে, তা এখনও ধরে আছি।

আর চেষ্টাও চলছে যাতে বাংলাভাষায়ে জ্ঞানকোষটা বাড়াতে পারি। কারণটা ঠিক এখনও জানি না। আজও খুঁজে যাচ্ছি মূল কারণটাই বা কি। এত পরিশ্রম কেন এই লক্ষ্যের পেছনে? কোন কাজে তো মনে হয় না কোনদিন লাগবে…এটাও মানি যে মানুষ সব জিনিস লাভের জন্যেই করে না। এক অন্য ধরনের সুখলাভ করতে সকলেরই ইচ্ছা, যে সুখের পথে পয়শা/নাম ইত্যাদি লক্ষ্য নয় কিন্তু কেবল এক মধ্যবর্তী বস্তু। যাক, বেশি তত্ত্ব জ্ঞান চর্চা করব না এ নিয়ে, শুধু এটাই বুঝছি আজকাল যে বাংলাভাষার সঙ্গে আমার সম্পর্কটাতে ওই ধরনের সুখের সাথেই জড়িত।

কখনও এই সুখের পেছনে দৌড়ুতে দৌড়ুতে আবার হথাসও হয়ে পড়ি। মনে হয় ১:৩৯:৪৪এর ভদ্রলোকটার মতন:

তখন আমি এই গানটা মনে করি,

আজকের জন্যে এই গানটা রইল, পরে আবার লিখব।

Advertisements

One thought on “স্বাগতম জানাই

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s