বেড়ানোর ধান্দা

ছোটবেলায় আমরা বছরে একবার অন্তত শীতের ছুটি বা পূজোর ছুটির সময় ইন্ডিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল দেখতে বেরুতাম। সমস্ত জায়গাতে গিয়ে সেখানকার খাবার, ইতিহাস, পোশাক, সঙ্গীত, ইত্যাদিতে মেতে উঠতাম। ট্রেন নড়তেই এ যাত্রা শুরু। ধীরে ধীরে কলকাতার ধোঁওয়াটে পরিবেশ পেরিয়ে যেত, দেখতাম গ্রাম বাঙলার সবুজ বন্যা। সেকেন্ড ক্লাস কম্পারটমেন্টে যেতাম, খোলা হাওয়া খেতে খেতে। খটক-খটক খটক-খটক তীব্র জোড়ে ট্রেনের আওয়াজ যেন মনকে বলছে, “ওঠ, এটা দেখ”।

সে ভারত দর্শনের আনন্দ আমার কাছে আজও অতুলনীয়। এবং ওই সময় থেকে যা শিখেছি বেড়ানো সম্বন্ধে, সেটার প্রয়োগ এখনও করি, দেশবিদেশে। বেড়ানোর মূল উদ্দেশ্য, আমার মনে হয়, ভিন্নভাবে লালিত মানুষগনকে চেনা, এবং তার জীবনের সাথে নিজের তুলনা ও প্রতিযোগিতা করে এক প্রকান্ড মনুষ্যত্বের সংযোগ স্বীকার করা। এতেই সব পর্যটক সুখলাভ করে, এবং এরই লক্ষ্যে বোধয় সারাক্ষণ বেড়ানোর পরিকল্পনা মনের মধ্যে চলে। অবশ্য উদ্দেশ্য এক হলেও এর খুঁটিনাটি অশেষ।

গত সপ্তাহ ধরে আমি ভাবছি একদিন এনাদের সাধুসঙ্ঘে যোগ দিয়ে আসতে হবে।

 

এই ব্যক্তির অনেকদিন ধরে দেখছি আর শুনছি ইউটুবে তাঁর গানবাজনা। প্রথম এ দলের টের পাই সানি লিওনের “বেবি ডল” গানের এক কাভারের থেকে। কি দারুণ ছন্দমূলক সঙ্গীত। তারের যন্ত্রটির নাম “সাজ”, বাউলের দোতারার সাথে মিল আছে। ওপরের ভিডিওটা বলিউডের গান নয়, কিন্তু এঁদের অনেক গান আছে যেগুলো বলিউডের সুর দিয়ে। আমার মতে তো বলিউডের ঘুমন্ত প্যানপ্যানে স্যাক্সোফোন/বেহালা দিয়ে গাওয়ার চেয়ে এরকম যন্ত্র দিয়ে অনেক ভালো শোনায়। ধর এই পরের ভিডিওটা, যেটাতে গান শুরু হয় ২ঃ০০ মিনিটের পর। এ সুর সবার চেনা (আবার ৬ঃ৩০এ সুরকার খেল দেখান “আফ্রিন আফ্রিন”এর সুর “কুছ কুছ হোতা হে”র সাথে মিলিয়ে)।

তেমনি দেখতে আরম্ভ করেছি যে এ প্রেরণা আদৌ কোনদিন সফল হবে কি না। এনারা হচ্ছেন বালুচি-জাত। বালুচিস্থান এক বিষাল অঙ্গ পাকিস্তানের দক্ষিণপশ্চিম প্রান্তে। মরুভূমি বলে বেশ নিরিবিলি জায়গা, সুতরাং বালুচিদের সংখ্যা খুব বেশি নয় যদিও তাঁদের দেশ সাইজে বড়। অনেকদিন ধরে এরাও বাংলাদেশের মতন পাকিস্তানি অত্যাচারের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। সে যুদ্ধের কারনে জায়গাটা বিদেশি পর্যটকদের পক্ষ্যে খুব নিরাপদ নয়। জারনালিস্ট ইত্যাদি অনেক সব কিডন্যাপ হয় পড়ছি ইন্টারনেটে। তবে এ ভয় কতটা যে সাদাচামড়া মানুষদের জন্যে ফেলানো, তা বুঝে নিতে হবে। বালুচিস্থানে এখনও এক মহাশক্তির তীর্থস্থান আছে, যার যাত্রায়ে নিশ্চয় ইন্ডিয়া থেকে অনেকেই প্রত্যেক বছর যায়।

এ নিয়ে একটা পুরনো বাঙলা সিনেমা আছে, এও জানতে পেলাম আমার বালুচিস্থানের চর্চায়ে। উত্তম কুমারের অভিনয়, “মরুতীর্থ হিংলাজ”। দেখতে আরম্ভ করলাম। ছোটবেলায় এরকম গোছের সিনেমাগুলো দাদুদিদারা হদ্দম রাত্তির বেলায় দূরদর্শনে দেখত। ক্রিকেট খেলার জায়গায় মাঝে মাঝে এগুলো চলত, আর কি ঘুম পেত, উফ। যাই হোক, ভাবলাম এখন বড় হয়েছি, হয়ত ঘুম পাবে না…বড় হইনি বোধয়। এক ঘন্টা টিকতে পেরেছি। আশা করি এটা বাঙলা সিনেমার সেরাশ্রেনির মধ্যে নয়।

যাই হোক, একদিন বালুচিস্থান যাওয়ার প্রোগ্রাম করা উচিত…হিংলাজের দর্শন আর সুন্দর সংগীতের খোঁজে। নিচে দিচ্ছি সিনেমাটা, হিংলাজ নিয়ে একটা তথ্যচিত্র, আর বালুচিস্থানের মারামারি নিয়ে কিছু কথা।

Advertisements