হুশিয়ার সাবধান

আমি অনেক বছর ধরে নরেন্দ্র মোদীর ক্রমবিকাশ দেখে আসছি, সেই যবে থেকে গুজরাট প্রদেশে ভূমিকম্প হয়েছিল, তবে থেকে বুঝেছিলাম এই ব্যক্তি অন্য ধরনের। রাজনীতিতে বেশীরভাগ মানুষ জড়িত হয় যুববয়সে সমাজের প্রতি চরম শ্রদ্ধা ও কল্যানের ইচ্ছা থাকলে। আমি জানি আমার প্রজন্মে বিশেষ করে এক অসীম অসূয়া মনের মধ্যে ঢুকে গেছে এ নিয়ে, কিন্তু আমি মনে করি মানুষ গোঁড়াতে ঠিক উদ্দেশ্যেই আসে এতে। তারপর সে ব্যক্তি তার নিজস্ব শক্তি আর গাফিলতির মধ্যে দিয়ে তার রাজনৈতিক সম্পাদন প্রকাশ করে। এই হল গিয়ে পার্থক্য এক সৎ আর অসৎ নেতার মধ্যে। আমি ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকেও সৎ হিসেবে মানি, আর মমতা আর কেজ্রিওয়ালদেরকে রাবণের অবতার হিসেবেও দেখি না, নাই বা কৃষ্ণের। এরা মাঝারি পর্যায়।

শ্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে সে সততা আমি অনুভব করি তার ভাষণ থেকে, তার আচরণ থেকে। তার রাজনৈতিক জীবনে কেবল একটি গাফিলতি হয়েছে যেইটি হচ্ছে গুজরাটের দাঙ্গা থামানো নিয়ে। আমি সেই দাঙ্গাকে অন্য চোখে দেখি। ৯০ দশকে আমরা বেশীরভাগ এই লালু, দেবে গউডা, মুলায়ম, মায়াবতী ইত্যাদি, এদের কোয়ালিশন সরকার দেখেছিলাম, যেখানে এ ওকে ওখান থেকে চুরি করতে দিচ্ছিল, আর উল্টে এ একে এখান থেকে চুরি করতে দিচ্ছিল। সেই দশকের এই রিজানাল দলদের ফর্মুলা ছিল গরীব মুসলিম জনসংখ্যাদের কিছু তোষণ করে তাদের ভোট নাও, আর তার সাথে কিছু জাতিভেদের নামে দুএকটা আরও সমাজের ভোট নাও, গদি দখল কর, আর ফের চুরি কর। এতে কারুরই লাভ হচ্ছিল না, সমস্ত দেশ বিগড়চ্ছিল, আর দাঙ্গা দিনকেদিন হচ্ছিল ছোটোখাটো সারাক্ষণ কারণ মানুষকে গরীব আর বেকার রেখে দিলে ওর আর কিছু করার থাকে না। সেই জঘন্ন পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করতে এক ধরনের বলিদানের দরকার ছিল। লক্ষ কোটি মানুষ অনাহারে মরার চেয়ে ২০০০জন খুন হয়ে তারপর সুরাজ্য আনা যতই টেকনিক্যালি খারাপ বলা যায়, আমি সেভাবে দেখি না। মানুষের জীবনের দাম এমনিতেই এত কমে গিয়েছিল সে সময়তে, আমি আর ইতিহাস সেই ২০০০জনের বলিদানকে সেইভাবেই দেখবে ভবিষ্যতে, যার বিনিময় মোদীকে আমরা হয়ত চিনতাম না। সেই দশকের অসহায়তা প্রকাশ করেছিল খুব ভালো করে কয়েকটা সিনেমা যেমন আমির খান আর নাসিরুদ্দিন শাহের সারফারোশ, আর নানা পাটেকার ডিম্পেল কাপাডিয়ার ক্রান্তিবীর। আমি এই দুটি সিনেমা নতুন করে দেখলাম মোদীজির ৫০০/১০০০ টাকার বাতিলতার ঘোষণার পর। এক আনন্দ এল মনে বহু বছর যা জানতাম না, যে আনন্দ ছোটবেলার থেকে বাস্তব ছিনিয়ে নিয়েছিল সাধারণ জীবন থেকে।

যখন উনি দর্ষকদের বলেন  দাঁড়াতে, তাকে আশীর্বাদ দিতে, তার গলার টান যখন বলে “ইমানদার লোগ”, এতে আমার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল। তারপর যখন কথা এগোয়ে যে তিনি কাদের সাথে লড়াই তুলেছেন, আমার মন তখন ওই সারফারোশ সিনেমার দিকে গেল। মোদীজি, আপনি বিশাল এক পদক্ষেপ নিয়েছেন, যার আন্তর্জাকিক মহলে অর্থনৈতিক ক্ষমতার জগতে প্রতিক্রিয়া দেখা যাবে। ভারতের এই দিনরাতের মধ্যে এইরকম বিশাল পদক্ষেপ নেওয়া তার চুরি করা ধনকে দেশের উন্নতির কাজে লাগানোর, এতে সমস্ত পৃথিবীতে ওলটপালট হবে। ভারতবর্ষকে লুট করে গরীব অনাহারে না খেয়ে মরিয়ে রাখার জন্যে যে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত চলেছে ১৭৫৭ সাল থেকে, সেই সংস্থানকে উল্টানোর প্রথম পদ নিলেন আপনি। এতে আপনি হুশিয়ার থাকুন। ইরানের মুহম্মদ মোসাদেঘও সে পথে এগিয়েছিলেন, তারপর ওনাকে হাটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আপনার দক্ষতায় আমার ভর্ষা আছে। আপনি কর্মযোগী। ফকীরি জগতে একটা কথা আছে, যে একবার মরে গেছে, তার মৃত্যুর কোন ভয় থাকে না, যে আগুনে একবার পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, সে ছাইকে পোড়ানো যায় না। আমি জানি আপনার শারীরিক মৃত্যুর ভয় নেই, কারণ আপনি ১২৫ কোটি দেবদেবীর পূজায় মগ্ন আছেন। লেগে থাকুন। ভারত মায়ের অঙ্গের ওপর এখন নফস জীহাদ হচ্ছে। আরও হোক। আমার তাঁর জীবনের প্রতি ভয় হচ্ছে কেননা ওনাকে কেউ উড়িয়ে দিলে আমি জানি না তাঁর মতন যোগ্য কেউ আছে কি না দেশকে এগুনোর জন্য। তাই আমার প্রার্থনা রইল এ নিয়ে।

Advertisements