মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কিছু মনের কথা

বর্তমান ধারা অবাধ রেখে দিলে আর একদেড়শো বছরে বাঙলার স্থান অন্তত পশ্চিমবঙ্গে সাঁওতালি বা সংস্কৃত ভাষার মতন উবে যাবে। অনেকেই আছে যারা দিনকেদিন নতুন প্রজন্মের ওপর নিন্দে করে, তাদের ঘাড়ের ওপর দোষ চাপায় মাতৃভাষার এই পরিণতি দেখে। আমার বড় হওয়াকালীন শুনতাম যে আজকালকার ছেলেমেয়েরা বাঙলা বই পড়েই না। এখন শুনি আমার প্রজন্ম থেকে যে আজকালকার ছেলেমেয়েরা বাঙলাতে কথাই বলে না। আচ্ছা, দোষ দিয়ে কি লাভ? নিন্দে করে কি লাভ? বর্তমান তো আর চাঁদমামা থেকে টপকে সেদিন উদয় হয়নি। বর্তমান ইতিহাসের ফল, ও ভবিষ্যৎ বর্তমানের ফল। এই হল বাস্তব।

আমি কেন বাঙলায় বই পড়িনি? কেন আজও, যে গতিতে আমি একটি ইংরেজিতে লেখা পড়ে ফেলতে পারি, সে সোমান গতিতে কেন একটি বাঙলা লেখা পড়তে পারি না? হয়ত কিছু কিছু কথা বুঝতে পারি না। তাও চালিয়েনি আগের সামনের বাক্য পড়ে। হয়ত কোন এক পর্যায়ে আর তা করে টেঁকা যায় না। নির্লিপ্ত হয়ে পড়ি। কেন এত ন্যাজেগবরে অবস্থা আমার নিজ মাতৃভাষার শব্দকোষের? কেন ইংরেজির অঙ বঙ চঙের পর্যায়ের লেখা আমি বিনা অসুবিধায়ে গড়গড় করে পড়ে যেতে পারি, কিন্তু বাঙলায় তা পারি না? কি কারনে নিজের ভাষায় অনর্গল হওয়াটি এক বিশাল মহা তপস্যা? যে জিনিসটা এক অপরের ভাষায় স্বাভাবিকভাবে গড়েছে, সেটা নিজ ভাষায় হয়নি কেন? এমনকি তার উল্টোটাই তো আমার মতে স্বাভাবিক হওয়ার কথা ছিল, তাই না? এটা কি ১৭৫৭ সালের পলাশী মাঠের ফল আজও ভোগ করছি? ইতিহাসের সমস্ত দুর্ঘটনাই কি বর্তমানের পক্ষে নির্দিষ্ট হয়ে ওঠে? আর ভবিষ্যতের ব্যাপারে কি মানুষ এতই হাতপাবাঁধা?

আসলে ভাষার স্থান মানুষের জীবনে এক পরিপুর্ন উপযোগিতার ব্যাপার। ভাষা দিয়ে যেমন মানুষ সাহিত্য লেখে, তেমনি ভাষা দিয়ে মানুষ অঙ্ক কষে। যেমন ভাষা দিয়ে সে ফল কেনে, তেমনি ভাষা দিয়ে সে ভালোবাসা প্রকাশ করে। সে ভালোবাসা প্রকাশ করারও নানান পর্যায়ে সে সেই ভাষার ব্যবহার করে, সে কামে মগ্ন ভাবেই হোক, বা অচেনা অজানা মনের মানুষকে চিঠি লেখাই হোক। সবেতেই এক ভাষা মানুষকে ধরে রাখে, তাকে সম্পুর্ন করে তোলে। মাতৃভাষার টান প্রত্যেক মানুষের কাছে ভিন্নভাবে উত্তম বাকি ভাষার তুলনায়। এর সাথে তার পুর্বপুরুষের কর্মকান্ড জড়িত থাকে। কোন না কোন ভাবে এক আধ্যাত্মিক দিক থেকে প্রত্যেক মানুষের সে মাতৃভাষার প্রতি এক টান এবং তার চেয়েও জরুরি এক দক্ষতা থাকে।

আমরা যেটা করেছি, হচ্ছে এক অনাসৃষ্টি বিভাজন ভাষা কে নিয়ে। কাজের কাজ বলতে আমরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাঙলা কে জয়ী করিনি। বাঙলাকে জোর করে ফেলে রাখা হয়েছে মগজের ডানদিকে, যেদিক থেকে উদয় হয় শিল্পকলা, সাহিত্য, কাব্য, সৃজনশীলতা, ইত্যাদি। কিন্তু বাঙলাতে কেউ ডাক্তারি পড়তে পারবে? কিংবা ইঞ্জিনিয়ারিং? আমি কি ড্রোন টেকনোলজি নিয়ে চর্চা কোথাও ছাপতে পারব বাঙলাতে? কেউ কি আছে যে সে পর্যার অঙ্ক এবং বিজ্ঞান বাঙলায় পড়েছে, গবেষণা করেছে? অতএব বাঙলার মূলত কোন কাজ নেই কেবল মনের শান্তনা দেওয়া ছাড়া। আমরা বাঙলাকে এক অস্বাভাবিক মোড়ে ফেলে এসেছি। “বাঙলাতে কত ভালো”, এক ধরনের প্রশংসা। কিন্তু এ কথার পেছনে দুতিনটে প্রক্রিয়া মাথার পেছনে চলে, এটা ভেবে দেখা উচিত। বাঙলাতে কত ভালোর মানে হল যে সে ব্যক্তি নিজের সময় বের করে একটি অতিরিক্ত জিনিশ গ্রহণ করেছে। বাঙলাতে ভালো হওয়া মানে ক্যারাটেতে ভালো হওয়া (সবারই ক্যারাটে জানলে ভালো হয়, কিন্তু সবাই না জানলেও ঠিক আছে, যারা জানল, তাদেরই “ভালো”)। তাও বা আজ বাঙলায় ভালো হওয়ার উপযোগিতা ক্যারাটের সোমান। আর চার-পাঁচ দশকে বাঙলায় ভালো হওয়া আর তিনটে বল নিয়ে ভেল্কি করাও এক পর্যায় থাকবে।

এসব ব্যাপারে অন্যান্য বাঙালিদের বললে তারা আঁতকে ওঠে। তাদের বাঙলাভক্তি গল্পের বই, সিনেমা, কবিতা, গান, কেবল এগুলোতেই থাকে। তবে উল্টে দোষ দেবে যে আগামী প্রজন্ম বাঙলায় কথা বলছে না, কিন্তু নিজেরা কি বোঝে যে তারা বাঙলাকে কেবল এক মিউজিয়ামের টুকড়ো বানিয়ে তারা নিজেরাই সে পরের প্রজন্মের অবস্থা আগের থেকে ঠিক করে দিয়েছে? স্বাধীন ভারতে ৪৭ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে যদি তক্ষুনি সমস্ত বিশ্বের বিজ্ঞানকে বাঙলানুবাদ করে নেওয়া হত, যদি সমস্ত উচ্চশিক্ষা এবং বৈজ্ঞানিক চর্চা বাঙলাতে করার মতন প্রতিষ্ঠান গড়া হত, তাহলে কত ধরনের উন্নতি হতে পারত। এক অপর ভাষার (ইংরেজি) চাপ দিয়ে মানুষের দক্ষতাকে বেকার দমিয়ে রাখতে হত না। হয়ত নিজ মাতৃভাষায় লক্ষ কোটি চাষার মধ্যে থেকে নতুন ভাবে ধান ফসল করার গবেষণা আসত। হয়ত বাঙলার জেলেরা কিভাবে মাছ ধরা যায় টেকসইভাবে, তা নিয়ে লিখত কোন বাংলাভাষী পঞ্জিকাতে। আর হ্যাঁ, অবশ্যই বাঙলায় জোর দেওয়া মানে নয় যে বাকি পৃথিবীর থেকে সরে যাওয়া। সে পঞ্জিকাগুলোই অন্যান্য ভাষাতে অনুবাদ হত, আবার বিশ্বের অন্যান্য জার্নাল ইত্যাদি বাঙলাতে অনুবাদ করা যেত। জাপানি, কোরিয়ান, এদের সাথে কি আমেরিকানরা কম কাজ করে? ওরা তো নিজেদের ভাষাতেই সমস্ত কাজ করে। যখন প্রয়োজন হয়, তখন দুদিকেই অনুবাদক থাকে।

এই ইংরেজি আন্তর্জাতিক ভাষা হওয়া নিয়ে এরকম উল্টে নিজের জাতিকে দুনম্বরি সাহেব বানানো, এতে কেবল ভারতীয় উপমহাদেশ এবং আফ্রিকার উপমহাদেশ, এ দুই জায়গাই নিজেদের স্বাধীন দেশের এ হাল করেছে। ভাষা ভোলার চেয়েও আরও বেশী অমানুষিক প্রক্রিয়া হচ্ছে দারিদ্রতা। যারা নিজ মাতৃভাষায় নিজেদের প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে, তারা তাদের সমাজের তালা খুলে ফেলতে পেরেছে, এবং তারা অনেক উন্নতি করতে সক্ষম হয়েছে। এ দুনম্বরি সাহেব হওয়ার ধান্দায়ে যাও বা হবে, তা হচ্ছে কেবল অসংখ্য মানুষের কারনে। হ্যাঁ, দেড় বিলিয়নের মধ্যে অনেকই অতি মেধা মানুষ থাকবে যারা অপরের মাতৃভাষা নিয়েও তা দিয়ে অঙ্কে ভালো হবে, মহাকাশ গবেষণা করবে, এসব। কিন্তু নিজের ভাষার দরজা যদি খোলা থাকত, তাহলে ইস্রোর আজ অবদি যা সংসাধন হয়েছে, তার সোমান আমরা ভারতের প্রত্যেকটি রাজ্যের নিজস্ব মহাকাশ প্রতিষ্ঠান থেকে পেতাম। হয়ত ভারত থেকে ইন্টারনেট প্রথম বেরুত, বা সেলফোন। বা হয়ত অন্য এমন এক জিনিশ যা পৃথিবীর মানুষের হাতছাড়া আজকে কেননা আমরা নিজ মাতৃভাষাদের তার প্রাপ্য বল দিইনি।

আজও সম্ভবতা আছে কিছু করার। বাঙলা মিডিয়াম কলেজ ইউনিভার্সিটি খুললে যে সে প্রতিষ্ঠানটি পাকা থাকবে না, এরকম পরাজিত মনের আমি নই। প্রথম প্রথম বাংলাভাষী মানুষই আসবে পড়তে, হয়ত অতি গরীব পরিবার থেকে, কিন্তু তারা আসবে। তাদের মধ্যে মেধা ও দক্ষতা থাকবে, যা তাদের নিজ মাতৃভাষায় কাজ করার কারনে তার থেকে এক নুতন দক্ষতা আসবে যা এখন অবদি ভারতে নেই। অধ্যাপক প্রথম প্রথম হবে যারা ইংরেজিতেই নিজেদের কাজ শিখেছে আর বাঙলাটা কেবল ওই সাহিত্যিক কারনে কিছু ধরনের সক্ষমতা আছে। অভ্যাসের সাথে ওরাও নিজ মাতৃভাষায় সে কাজ করতে সফল হবে। যারা পাস করে বেরুতে থাকবে, তাদের মধ্যে কেউ নিজেদের কোম্পানি খুলবে। হয়ত কেউ এমন প্রোডাক্ট তৈরি করবে যা বিশ্ব বিখ্যাত হবে, আর্থিকভাবে স্থিতিশীল হবে, তারাও হয়ত তাদের পুরনো ইউনিভার্সিটিতে পয়সা ঢালবে। মানে এই তো হল ভালো একটা মিথোজীবী সুস্থ সমাজ।

আসল কারন যদি কেউ খোঁজে যে কেন ভারতীয়য় উপমহাদেশ ও আফ্রিকাতে নিজ মাতৃভাষাদের ডোবানো হয়েছে, তাহলে খানিকটা বিশ্লেষণ করলেই তা বের করে নেওয়া যায়। এ দেশগুলি যখন স্বাধীন হয়, তখন সাহেবদের এ দেশগুলিতে কিছু কেরানিরা ছিল, যারা তখনকার সমাজে এক অতি ছোট কিন্তু বিশালভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত এক অংশ ছিল। তারা নিজেদের কাজ ও সমাজে অর্জন করা স্থানের নিরাপত্তার কারনে চায়নি যে দরজা খুলে যাক। তাদের স্বার্থ ছিল, সে পাকা চাকড়ি নিজের থাক। ইংরেজি ভাষার প্রধানতা সমস্ত ভালো চাকড়ি ও উচ্চশিক্ষায় রেখে তারা নিজেদের ছেলেপুলেদের জন্যেও যতটা সুবিধে দেওয়া যায়, তা যাচাই করে নিল। আমেরিকাতে আজকাল অনেক চর্চা হয় “প্রিভিলেজ” সম্বন্ধে। গবেষকরা বহু জটিলভাবে লক্ষ্য করেছে কত ধরনের জিনিশ মানুষের জীবনে তাকে এক বিশেষ সুযোগ দেয় অন্য মানুষের চাইতে। এ চর্চা দেখে আমি বুঝেছি যে ভারতে সাহেবদের কেরানিরা যেভাবে প্রিভিলেজ নিজেদের জন্যে বজায় রেখেছে, আর কেউ পৃথিবীতে বোধয় তা করেনি (হয়ত আফ্রিকাতেও তাই, কারন ওরাও একই পর্যায়)। ভাবুন, দুইটি পরিবার, একটির বাবামা দুজনেই  ইংরেজিতে দুতিন প্রজন্ম ধরে ফ্যাটফ্যাট করে, অন্যটির বাবা হয়ত অল্প কিছু ইংরেজি বোঝে, কিন্তু তেমন কিছু আহামরি না, আর মা বোঝেই না। প্রথম পরিবারের ছেলে অঙ্ক ও বিজ্ঞানে মাঝারি, দ্বিতীয় পরিবারের ছেলে এই আসল বিষয়তে অত্যন্ত মেধা, কিন্তু ইংরেজিতে কাঁচা ঠিক বলব না, কিন্তু পুরদস্তুর ভাবে তার বাড়িতে কেউ ইংরেজি না জানার ফলে তার ছাত্রজীবনে এই ভাষার ব্যাপারটি বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। হ্যাঁ, বলা যায় যে সে সত্যিকারের মেধা হলে ভাষার ব্যাপারটি কিছুই নয়। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে, যে তাকে কেন সার্কাসের বাঘের মত আগুণের চক্করের মধ্যে দিয়ে লাফাতে হবে? হয়ত দুএকজন মেধা ছাত্র পারবে। কিন্তু এক বিশাল সমাজকে দমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং হচ্ছে এর কারনে। আর এত ইংরেজি জেনে কি করছে? সাহেবদের কম্পিউটার সারাচ্ছে যতদিন দেশ গরীব আছে আর মাল্টিন্যাশনালদের কাছে ভারতে ২০,০০০ ডলারে সে এক নিচ পর্যায়ের কাজ চুকে যায় যা আমেরিকাতে ৬০,০০০ লাগত। সাহেবদের কুলি হবার জন্যে কি এই ইংরেজি বিদ্যা ধরে রয়েছি?

এর পরও যখন লোকে বলে যে “নতুন প্রজন্ম” বাংলাভাষার বধনাম করছে, বিশেষ করে যখন তাদের জীবনী থেকে বোঝা যায় যে তারা নিজেরা কতরকম ভাবে এই ইংরেজিভাষার প্রিভিলেজ থেকে সুবিধে নিয়েছে লক্ষ্য কোটি দেশের মানুষের আর্থিক বিনিময়ে, তখন বড্ড রাগ ধরে। আর গরীব বা গ্রাম্য পরিবারের ছেলেমেয়েদের আজকাল যখন দেখি কিছু শিক্ষার প্রগতির ভিডিও ইত্যাদিতে যে তারা ইংরেজিতে কথা বলছে আর তাদের চাষা মাবাপেরা মুগ্ধ হয়ে হাঁ করে রয়েছে আর মায়েদের চোখে কান্না আসছে, আমি সে বলিউডে ভাসি না। আমার মাথায় সে সোমান ভিডিও চলে, এক মেমসাহেব মা, সুইতজারল্যান্ডের গরুর দুধ বের করে নিজের ঘরে ঢুকলেন। তাঁর নীল চোখ হলদে চুল মুখে ফোটা ফোটা লাল দাগ মারা ৫ বছরের মেয়ে বাড়ি এসে মারাঠিতে বলল চারটি কথা, আর সে মেমসাহেবের চোখে জল এল। হাস্যকর ব্যাপার সত্যি।

ইংরেজির বেশী ব্যবহার আমি করি না এই মঞ্চে, বা চেষ্টা করি না করতে। তবে কি করা যায়, ইংরেজি তো প্রতি বিলে গুঁজে রয়েছে। তাও একটি কথা দিয়ে শেষ করব যার ইংরেজির থেকে বাঙলা অনুবাদটা ঠিক হবে না মনে হয়। Charity begins at home. এই মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আমি আশা করছি যে বিশ্বের গোটা বাঙালি জাত, ভারত, বাংলাদেশ এবং এদের প্রবাসী যারা, আমাদের মধ্যে কেউ যেন এই ২১এ শতাব্দীতে কিছু একটা করা আরম্ভ করে যাতে আমাদের এই মাতৃভাষা কেবল মঞ্চের কবিতা আবৃত্তিতে আটকে যায় না। এর পেছনে আর্থিক শক্তি চাই। আর্থিক শক্তি বিনা সংস্কৃতি টেঁকে না। এই ব্লগের আগের লেখাতেও আমি এই কথার উল্লেখ করেছি, আবার করছি। আমাদের সাংস্কৃতিক যাই সম্পদ আজ রয়েছে, সেগুলি ৭০০০ বছরের জন্যে পৃথিবীর সেরা অর্থনৈতিক শক্তি হওয়ার কারনে। অর্থ ও মানসিক সভ্যতা হাতে হাত মিলিয়ে চলে। দুটোকে আলাদা করলে আর্থিক ব্যাপারে দরিদ্র থাকব, আর তার সাথে সাথে সংস্কৃতিটাও উঠে যাবে। Survival of fittest কথাটিও এক বাস্তব। Fit হতে হবে, স্বামী বিবেকানন্দ থেকে টেনিদা, সবাই তা বলে গেছেন।

Advertisements